কত কথা রয়ে যায় বাকি!
লাইফ টিভি 24
প্রকাশিত: ০১:২৪ ১৭ জুলাই ২০২৩
আমি কিশোরদার সাথে যত প্লেব্যাক করেছি তার সমান না হলেও মঞ্চানুষ্ঠান কম করিনি। কি দেশে কি বিদেশে। অনেক বড় বড় অনুষ্ঠানে আমি ছিলাম তাঁর সাথে এই অনুভবটা আমাকে বারবার আবেগাপ্লুত করছে।
বেশিররভাগ অনুষ্ঠানে আমি আগে গাইতাম তারপর কিশোরদা। স্বাভাবিক, জুনিয়র আগে গাইবে এটাই নিয়ম। তারপর ওনার গান গাওয়া শেষ হলে উনি মঞ্চ থেকে আমাকে ডাকতেন। বলতেন কনককে মঞ্চে আমার সাথে ডুয়েট গাইবার অনুরোধ জানাচ্ছি। কনক, আসো! আমি সবসময়ই বলতাম কিশোরদা অনুরোধ শব্দটা বইলেন না প্লিজ! কিন্তু উনি কখনো তা শোনেননি। এভাবেই ডেকে গেছেন।
মঞ্চে আমাদের দুজনেরই নিজস্ব সোজাসাপটা বডি ল্যাঙ্গুয়েজ নিয়েই গাইতাম। কিন্তু আজকালকার চল(!) অনুযায়ী কিশোরদা ভাবতেন যে আরেকটু অভিনয় দরকার! সেই ভাবনাতেই "তোমায় দেখলে মনে হয়" বলতে গিয়ে আমার দিকে তাকাতে আমি লজ্জায় মরে যেতাম। মঞ্চে ডুয়েট গানে একটু প্রেমিক-প্রেমিকার অভিনয় দর্শক পছন্দ করে। কিন্তু সেই অভিনয়ে আমি, কিশোরদা দুজনই ভীষণ আনাড়ি!
সবশেষে মঞ্চ জমানোর জন্য সব সখিরে পার করিতে নেব আনা আনা গাইতে গিয়ে তোমার কানের সোনা গাইতে গাইতে দুরত্ব বজায় রেখেই আমার কানের দুলে ইঙ্গিত করতেন আঙুল উঁচিয়ে। আমি মঞ্চে লজ্জায় হাসতে থাকতাম। একবার যেই তোমার কানের সোনা বলে আঙুল উঁচিয়েছেন ঠিক তখনই কাকতালীয়ভাবে পুশ খুলে কানের একটা দুল খুলে পড়ে গেলো! পেছনে এলইডি স্ক্রিনে দর্শক সব স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছে। সবাই হেসে উঠল, পেছনে বাজনা বাজছে, কিশোরদা বলছেন "আমি কিন্তু ওর কানের দুল খুলিনি, চেয়েছি মাত্র।" আবার দর্শকদের হাসি।
আমেরিকায় আমাদের কমন প্রমোটর আলমগীর খান আলম ভাই কতবার যে আমাদের একসাথে নিয়ে গেছেন! অলি আংকেল-এর খালি বাসায় আমরা অনেক শিল্পী একসাথে থাকতাম মাস ধরে। আমি, রিজিয়া আপা, বিপাশা হায়াত, সুমনা হক আমরা পালাক্রমে রান্না করতাম। কিশোরদা বলতেন গরুর গোস্ত কনক রান্ধো। আর কেউ না, আররেএএএ! সেইরকম ঝাল দিবা যেন খেতে খেতে কাঁদতে হয়!
কতরকম গল্প যে উনি করতেন! চিটাগং এর প্রত্যন্ত অঞ্চলে উনি নাকি একটা বিশেষভাবে মাছ রান্না খেয়েছেন। শোল মাছ প্রসেস করে কলাপাতায় পেঁচিয়ে মাটির প্রলেপ দিয়ে জলন্ত উনুনে পুতে রান্না হয়। তারপর খুললে যে সুবাস বের হয় সেটা এমনভাবে বলতেন যে প্রতিবারই জিভে পানি আসত।
উনি বলতেন কনক জানো অজু কী? আমি ধর্মীয় প্রয়োজনীয়তার কথা বলতাম। কিশোরদা বলতেন, তুমি তো এটা বলবেই ।কিন্তু তুমি কি জানো এটা কত সায়েন্টিফিক? আমি বাধ্য ছাত্রীর মতো বলতাম "না"। কিশোরদার ব্যাখ্যা "অজু করার সময় আমাদের হাত, ঘাড় ও পায়ের পালস পয়েন্টগুলো ভেজে। তাতে দেহ ঠান্ডা হয়। সাথে পবিত্রতাও আসে।" আর যার জন্য উনি নিয়মিতই অজু করতেন!
আবার জিজ্ঞেস করতেন বলো তো হিন্দু বাড়িতে তুলসীগাছ কোথায় থাকে? আমি জানি না সূচক মাথা নাড়তেই উনি ব্যাখ্যা দিতেন। বলতেন তুলসীগাছ হলো হার্বের রানি। আমাদের লাংসের জন্য তুলসীপাতার রস তো বটেই তুলসীগাছের উপস্থিতিও খুবই উপকারী। সেজন্য প্রতিটি হিন্দু বাড়িতে তুলসীগাছ ব্রিদিং লেভেল বা বুক বরাবর উঁচু বেদিতে লাগানো হয়।
ওনার একবার সর্দি-কাশি সারছিলো না। ডক্টর বলেছেন সকালে কিশোরদা যেখানে বসে পেপার পড়েন সেখানে একটা তুলসীগাছ রাখতে। এমন ছোট ছোট কিন্তু খুব সুন্দর ব্যাপার উনি খুব সহজে ছড়িয়ে দিতেন। স্টুডিওর সাহায্যকারী, ম্যানেজার সবাইকে এমন আদর করতেন তা বলার বাইরে। এক কাপ চা চাইতেও খুব আপন করে বলতেন আইয়ুব এক কাপ চা দে তো বাবা!
আমাদের সুরসম্রাট আলাউদ্দিন আলী ভাইয়ের চেয়ে আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল ভাই বয়সে ছোট অথচ আলী ভাই কিশোরদাকে আপনি করে বলতেন আর বুলবুল ভাই কিশোরদাকে তুই করে বলতেন। আমি হা করে এর রহস্য উদঘাটনের অপচেষ্টা করতাম।
কত কিছু যে মনে পড়ছে। তিন-চার বছর আগে অনেকগুলো স্কুলের ১০০ বছর পূর্তির হিড়িক লাগলো। আমি আর কিশোরদা একচেটিয়া সেই অনুষ্ঠানগুলো করতে করতে সারা বাংলাদেশ ঘুরতে লাগলাম। কিশোরদা মজা করে বলতেন আহা, সেই সময় মানে ১০০ বছর আগে প্রতি পাড়ায় পাড়ায় স্কুল হলো না কেনোরেএএএএ! তাহলে তো জীবন পার হয়ে যেতো অনুষ্ঠান করে করে!
গানের তৃষ্ণা তাঁর কখনওই মিটতো না। মিরপুর থেকে শ্রুতি স্টুডিওতে ঠিক সময়মতো আসতেন। কত যে হাবিজাবি গান গেয়েছি, নকল গানও গেয়েছি। দুইজন চোখ চাওয়া চাওয়ি করলে রেকর্ডিং-এর সময় চুপিচুপি বলতেন একদিন না গাইলে দম আটকে আসে রে! গাই, হয়তো এই গানটাও ভালো গান হয়ে উঠবে।
রাজশাহী গেলে যাদেরই অনুষ্ঠান হোক কিশোরদা হোস্ট হয়ে যেতেন। কী আদর যত্ন, রাজশাহী সিল্ক গিফট করা, কলাইরুটি খাওয়ানো, পদ্মার পাড়ে বেড়ানো, এই স্পেশাল চা, ওই গরম মিষ্টি এগুলো করতেন। ফেরার পথে একগাদা ডালের বড়ি, ডুমুর, আম এগুলো দিয়ে দিতেন, আহা!
একবার পদ্মার পাড়ে আমরা ব্যাটারি চালিত রিকশায় চড়লাম। কিশোরদা সামনে ড্রাইভারের সাথে বসলেন। আমি পেছন থেকে সামনের লুকিং গ্লাসে কিশোরদার ছবি তুললাম। সে এক ঐতিহাসিক ছবি! সেই ছবিটি কমেন্টে দিলাম
একবার জামালপুর গেলাম দেওয়ানগঞ্জ একটা স্কুলের ১০০ বছর পূর্তির অনুষ্ঠানে। ট্রেনে সে কী খাওয়ার বহর! কী নাই সেখানে, আল্লাহ! কিশোরদা একলাই নানা খাবারের সাথে ১২টা ডিম সিদ্ধ খেলেন! আমরা হা!
কোলকাতায় কোলকাতার ছবিতে গাইতে গিয়ে একসাথে ছিলাম কয়দিন। কিশোরদার মজা করে খাওয়া তখন আমি প্রথম দেখি। বিস্ময় আমার কাটেনা। পরে আমার হা করে থাকা দেখে বলতেন শোনো আমি শুধু খাই না, ব্যয়ামও করি নিয়মিত এবং প্রানায়াম ও রেয়াজ। এই খাবার এমনিতেই হজম হয়ে যায়। আমার বিস্ময় কাটে।
এত হাসিখুশি মানুষটা, আমার কন্যা ফারিয়ার গায়ে হলুদে যখন লীনু ভাই, খুরশিদ আলম ভাই, রিজিয়া আপা, আবিদা আপা, দিনাত মুন্নি, সুবীরদা, বৌদি সবাই নাচছিলো। কিন্তু কিশোরদা খুবই লজ্জা পেলেন। তাকে কেউ নাচের ভেতর নিতেই পারলো না!
আমার বাসায় এক রেকর্ডিং থেকে আরেক রেকর্ডিং-এর ফাঁকে এসেছিলেন আধা ঘন্টা রেস্ট নিতে। আমি চট করে ফ্রেস মিক্সড ফ্রুটস চাট মসলা আর দই মিলিয়ে খেতে দেয়ায় খুব অবাক হলেন, বললেন আরেএএএএ এই ফলার তুমি কই থেকে শিখলে! এটা আমার মায়ের হাতের ফলার। তুমি জানো এটা কত উপকারী!
আমাদের কথা ছিলো বাচ্চাদের জন্য গান গাইবো। আমি বাচ্চার কণ্ঠে। উনি বাবার কণ্ঠে। পালটাপালটি ছড়া আরকি।
তা আর হলো কই!
লেখিকা: কনক চাপা
দেশবরেণ্য সঙ্গীতশিল্পী
- বয়স্করা যেসব খাবার এড়িয়ে চলবেন
- বৈশ্বিক ক্ষুধা সূচকে ভারত-পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে বাংলাদেশ
- বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের সূচি পরিবর্তন
- ঢাকার বায়ুদূষণ দেশের জন্য লজ্জার বিষয়: প্রধানমন্ত্রী
- ‘বাংলাদেশ পথ দেখিয়েছে’, নেহার ভিডিও নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ বিজেপির
- প্রক্রিয়া শুরু
মালয়েশিয়ায় যেভাবে হবে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ - দীর্ঘ সময় ফোন ব্যবহারে চোখে জ্বালাপোড়া, সমাধান কী?
- ওষুধ কারখানার আগুনে ক্ষয়ক্ষতি হলেও প্রাণহানি নেই
- নোবেল পুরস্কারের ফেসবুক পেজে রবীন্দ্রনাথ ও রাসেলের ১১৪ বছরের চিঠি
- ক্যারিয়ার সেরা র্যাঙ্কিংয়ে হাসান মাহমুদ
- রাশিয়ায় নিয়ে যুদ্ধে পাঠানো ৩০ বাংলাদেশির ২০ জনের মৃত্যু
- অপারেশন ক্লিন হার্টের মতো অভিযানের পরিকল্পনা নেই
- দূষণজনিত মাথাব্যথা নাকি মাইগ্রেনের সমস্যা? বুঝবেন যেভাবে
- সমুদ্র তীরে দাঁড়িয়ে দৈত্যাকার দানব
- নিউটনের ঢের আগে মাধ্যাকর্ষণ শক্তির টের পান দা ভিঞ্চি!
- সেরা ঘুমের প্রতিযোগিতা, পুরস্কার ১৪ হাজার ডলার
- নাফ নদীতে ইয়াবা পাচারের ‘ডুবন্ত সাবমেরিন’ উদ্ধার
- বাংলাদেশ থেকে জয় ছিনিয়ে ড্র আফগানিস্তানের
- বন্ধুর চেয়ে শত্রুর নাম বেশি মনে থাকে কেন?
- সারাদেশে ২ দিন এলপিজি বিক্রি বন্ধ থাকবে
- অর্থনীতিতে নোবেল পেলেন রবার্ট ই হল ও মাইকেল উডফোর্ড
- বাংলাদেশসহ কয়েক দেশের শিক্ষার্থী ভর্তিতে কঠোর যুক্তরাজ্য
- বিধবা কার্ড দিলে সবার আগে এমপির বউ নেবে: হাসনাত আবদুল্লাহ
- মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে রেমিট্যান্স কমার শঙ্কা, নতুন শ্রমবাজারে নজর
- হঠাৎ চুল পড়া বাড়লে কি করবেন?
- একটি দৃশ্যের জন্য এখনো বারবার মহড়া দেন অমিতাভ
- জনগণের অর্থের প্রতিটি পয়সা জাতীয় স্বার্থে ব্যয়ের নির্দেশ
- স্ট্রোক, ডিমেনশিয়া ও বিষণ্নতা দূর করার ১৭ উপায়
- হ্যাটট্রিক করে ইতিহাসে হাসান মাহমুদ
- দুর্গাপূজা: বাঙালি হিন্দুদের বড় ধর্মীয় উৎসবে পরিণত যেভাবে
- সন্দেহের বশে বাংলাদেশি তকমা দিয়ে পুশইন নয়: কলকাতা হাইকোর্ট
- বিয়ের জন্য যেমন ছেলে চান মিমি
- `সিনেমা আমার পেশা, লাইফস্টাইল নয়`
নিজ জমিতে চাষ করতেন নানা পাটেকর - চলচ্চিত্রের এ শূণ্যতা পূরণ হবে কি?
ঝড় তোলা এক অনন্য নানা - চট্টগ্রাম বন্দর ১৫ বছর পরিচালনা করবে ডিপি ওয়ার্ল্ড, চুক্তি সই
- যেসব খাবার একসঙ্গে খেলে বেশি পুষ্টি মিলে
- পর্দার ‘ফাটাকেষ্ট’ এবার বাস্তবেই মন্ত্রীর মর্যাদায়
- বিমানবন্দরে ‘সোনার ডিম’ উদ্ধার: ৫ দিনের রিমান্ডে আসামি
- দাঁড়িয়ে পানি পান কি আসলেই ক্ষতিকর?
- রূপপুরের বিদ্যুৎ দ্রুত জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ: রোসাটম
- চুলকানি বেশিদিন থাকলে ৪ ধরনের রক্ত পরীক্ষা জরুরি
- ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনের প্রতীক বরাদ্দ
- শান্তিতে নোবেলজয়ী কে এই নাভি পিল্লাই
- মেসির বিদায়ী ম্যাচে চরম অপমান ও বঞ্চনার অভিযোগ বেনিনের
- হ্যাটট্রিক করে ইতিহাসে হাসান মাহমুদ
- দূষণজনিত মাথাব্যথা নাকি মাইগ্রেনের সমস্যা? বুঝবেন যেভাবে
- হঠাৎ চুল পড়া বাড়লে কি করবেন?
- দুর্গাপূজা: বাঙালি হিন্দুদের বড় ধর্মীয় উৎসবে পরিণত যেভাবে
- বন্ধুর চেয়ে শত্রুর নাম বেশি মনে থাকে কেন?
- একটি দৃশ্যের জন্য এখনো বারবার মহড়া দেন অমিতাভ

